কক্সবাজার

জাতিসংঘ সংস্থার উদ্যোগে শুরু হলো দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসকরণ কার্যক্রম ও যৌথ ওয়ার্কশপ  

60views

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর উদ্যোগে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য দ্বিতীয় ধাপে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসকরণ বিষয়ক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘ শরনার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিওএফপি) এর উদ্যোগে এসব কার্যক্রম শুরু হয়।

বাংলাদেশে দুর্যোগ-প্রবণ জেলা গুলোর মধ্যে অন্যতম কক্সবাজার, এখানে সাইক্লোন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, আকষ্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বসের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছরই অনেক গ্রাম, খামার এবং সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

এই কার্যক্রমের আওতায়, প্রথম ধাপে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ২০১৮ থেকে ১৯ সাল পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফে ৬০টিরও বেশি সাইক্লোন শেল্টার সংস্কার করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে,সাইক্লোন শেল্টারগুলোকে সংস্কার, আরও মজবুত করা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্যোগের প্রস্তুতি, সহনশীলতা এবং সামাজিক সংহতিকে আরও বাড়িয়ে তোলা হবে।

আইওএম-এর বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান ম্যানুয়েল পেরেইরা বলেন, “এই অঞ্চলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং সহযোগী সংস্থা যৌথভাবে আরও একটি কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে আইওএম অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
তিনি আরও বলেন,“অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্যোগের প্রস্তুতি ও জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে পারে, তা আইওএম-এর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও  বাংলাদেশের জনগণ যেন নিজেই দুর্যোগ মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ডব্লিওএফপি কক্সবাজারের ইমার্জেন্সি কোঅর্ডিনেটর পিটার গেস্ট বলেন, “এই সাইক্লোন শেল্টারগুলো সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিবছর দুটি সাইক্লোন মৌসুমে স্থানীয় জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এই কার্যক্রম আমাদের দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের কার্যক্রমেরই একটি অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে দুর্যোগের প্রভাব কমানো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যেন মানুষ সহজে যেতে পারে তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হওয়া আবহাওয়ায় দুর্যোগের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। এ কারণে, যেকোনো দুর্যোগের সময় দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

এই কার্যক্রম উদ্বোধনের পরে দুই দিনব্যাপী দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস-বিষয়ক ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়, যার উদ্দেশ্য দুর্যোগ হ্রাসের জন্য কাজ করছে এমন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করা।

কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর-এর হেড অব অপারেশনস্ মারিন ডিন কাজদোমকাজ বলেন, “প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে আমাদের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য ইউএনএইচসিআর ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো নিরন্তরভাবে কাজ করে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগের প্রভাব কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে শরনার্থীদের মাথায় রেখে এইধরণের সাড়াদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যার ফলাফল এরইমধ্যে দেখা যাচ্ছে বিগত বছরের তুলনায় এই বছর বর্ষার ফলে মানুষ, আশ্রয়স্থল ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি লক্ষণীয়ভাবে কমে এসেছে। যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যা, ভূমিধ্বস ও প্রাণহানির ঝুঁকি লক্ষ্যণীয়ভাবে কমিয়ে নিয়ে এলেও, জ্ঞান ও সর্বোত্তম কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সমন্বয়ের উন্নয়ন ও সিমিওলেশন এক্সারসাইজের মাধ্যমে আরও অনেককিছু করতে হবে।”

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও কক্সবাজার ডিসট্রিক্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে, যেন স্থানীয় জনগণ আরও বেশি দক্ষতার সাথে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারে।