আপনার কথাটেকনাফ

টেকনাফ স্থলবন্দরে গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় 

41views
নূরুল হক, টেকনাফ::::
টেকনাফ স্থলবন্দরে সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার বেশী রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই অর্থবছরে ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয় বলে এমনটি জানিয়েছেন শুল্ক বিভাগ।
এদিকে দুদেশে নানান সমস্যা ও মাদকের বিরুপ প্রভাব সত্বেও পন্য আমদানী স্বাভাবিক থাকায় রাজস্ব আদায় বেশি হয় বলে জানায় বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা মোঃ ময়েজ উদ্দীন বলেন, সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের (জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত) মিয়ানমার থেকে পন্য আমদানী করে ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক এই বছর ১৪৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ কোটি ৬২ লাখ ৯১ হাজার টাকা বেশী রাজস্ব আদায় হয়।
এ বন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে হিমায়িত মাছ, শুটকী, সুপারি, কাঠ, আচার, ক্যালসিয়াম, তেতুঁল, বড়ই, হলুদ, তৈরি পোশাক, মুলি বাঁশ, বেঁত, আদা, কালি জিরা, ধনিয়া, সেন্ডেল, ছাতা, তুলা, গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি আমদানী হয়।
অপরদিকে একই অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২১ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার টাকার পন্য মিয়ানমারে রপ্তানি হয়েছে। তবে সীমান্ত বানিজ্যে পন্য আমদানীর তুলনায় রপ্তানী হয় খুব কম। যার ফলে আমদানী ও রপ্তানী পন্যের বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। এই বৈষম্য দূরীকরনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচেছনা। মিয়ানমারে দেশীয় পণ্যের নিত্য নতুন বাজার সৃষ্টি করতে না পারলে রপ্তানীর এ দশা থেকে কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস কাপড় ও গেঞ্জি, চুল, সিমেন্ট, টেক্সটাইল জুট, ফেয়ার এন্ড লাভলী, গরুর নারি বুড়ি, অক্স পেনিস, এলমুনিয়াম সামগ্রী, ছাতা, প্ল¬াষ্টিক পন্য, টিউব ওয়েল, গাজী ট্যাংক, চানাচুর, বিস্কিট, চিপস, আলকাতরা, আলু, তেলকম পাউডার, পলিটিনের রোল পাম, শুকনা মরিচ, সপ্ট ড্রিং, ষ্টীলের রান্না ঘরের জিনিস পত্র, বোরকা, মেহেদী, সেমাই ইত্যাদি রপ্তানি হয়।
শুল্ক কর্মকর্তা আরো বলেন, শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা, নিরলস পরিশ্রম ও পন্যের সঠিক পরিক্ষা-নিরীক্ষার ফলে রাজস্বের লক্ষমাত্রার অতিরিক্ত আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তবে মিয়ানমারে দেশীয় পন্য রপ্তানীও আগের চেয়ে বাড়ছে। সীমান্ত বানিজ্যকে গতিশীল করতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
সীমান্ত বানিজ্য ব্যবসায়ীরা বলেন, বানিজ্য ব্যবসায় সুষ্ট পরিবেশ বিরাজ করছেনা। তাদের নানা সমস্যা পৌহাতে হচেছ।বানিজ্যিক পন্য আমদানী-রপ্তানী ক্ষেত্রে দুদেশে নানান সমস্যা লেগে আছে । মিয়ানমার থেকে পন্য আমদানীতে যেমন সমস্যা রয়েছে, থেমনি দেশীয় পন্য রপ্তানীতেও হয়রানী হতে হয়। তবে বিদেশী ডলারের মাধ্যমে দেশীয় পন্য রপ্তানী হয়ে থাকে। তাছাড়া এলসির ব্যবস্থা না থাকায় সীমান্ত বানিজ্যের পন্যের টাকা নিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচেছ। বানিজ্য ব্যবসায় আগের মত পরিবেশ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে ব্যবসা করছেন।বানিজ্য ব্যবসার সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। তাই সীমান্ত বানিজ্যকে গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সমস্যার কারনে সীমান্ত বানিজ্য ব্যবসায় ধ্বস নেমে আসছিল। ওই সময় সীমান্ত বানিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বর্তমানে এই সমস্যা অনেকটা কেটে উঠায় বানিজ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছেন। তবে দুদেশের অবস্থান ভাল থাকলে সীমান্ত বানিজ্যে আরো উত্তরন ঘটবে এমনটি আশা সংশ্লিষ্টদের।