আন্তর্জাতিকএক্সক্লুসিভকক্সবাজারটেকনাফরোহিঙ্গা সমস্যা

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস : বাংলাদেশের কাঁধে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বোঝা

116views

নূরুল হক, টেকনাফ ::::

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস। মায়ানমার থেকে চার দফায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছেন। যার ফলে দেশে রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ের চূড়ায় এসব রোহিঙ্গার অবস্থান। তাদের শিবিরগুলো অরক্ষিত থাকায় রোহিঙ্গারা সর্বত্র বিচরণ করে বেড়াচ্ছে। এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থাসহ আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নিয়ে নোয়াখালী ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মায়ানমারের রোহিঙ্গারা দফায় দফায় ৪০ বছর ধরে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। আরকান রাজ্যে মুসলমানরা সংখ্যালঘু, যার ফলে তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন, বিনা পারিশ্রমিকে মজুরি, উৎপাদিত ফসলের সিংহভাগ লুট, চলাচলে বাধা, অনুমতিতে যাতায়তসহ বিভিন্ন বাধায় মুসলমান রোহিঙ্গারা সহায়সম্পত্তি ও বসতবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে আরকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা নানানভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন।

সর্বশেষ গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন শুরু হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসে। ওই সময় সাত লাখের বেশি নতুন রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। এর আগে আরও চার লাখ মতো পুরাতন রোহিঙ্গা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে।

এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভার নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হবে। এই দিবস পালনে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিবিরের কয়েকজন নেতা।

তবে কি পরিমাণ রোহিঙ্গার অবস্থান এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে নতুন ও পুরাতন সব মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফ দুটি উপজেলায় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরে তা পালনে আয়োজন করা হয়েছে। তবে শিবিরগুলোতে র‌্যালি, আলোচনা, খেলাধুলা ও রোহিঙ্গাদের জীবনীর ওপর চিত্রপ্রদর্শনী করা হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মায়ানমারের ওপর আরও আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিতে হবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমন

বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা শরণার্থী হয়ে আসা নতুন নয়। ১৯৭৮ সালে সর্বপ্রথম মায়ানমার থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে পালিয়ে আসে। এ সময় সে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে সাড়ে তিন লাখ মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে কক্সবাজার, রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়। তবে আন্তজার্তিকভাবে কোন সাহায্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। তাই স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার সরকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত দেয়। এ সময় দেড় লাখ মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে থেকে যায়। এরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এরপর ১৯৯২ সালে আবারও নির্যাতনের মুখে আড়াই লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরা বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় ১৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়। এ ক্যাম্পগুলোর বেশির ভাগ বন বিভাগের জমিতে স্থাপন করা হয়েছিল। পরে ২০১২ সালের জুনে মায়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা মংডু থেকে আকিয়াব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এতে প্রাণ বাঁচাতে পালায় রোহিঙ্গারা। তাদের অনেকে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। এর পর ২০১৬ সালের অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ হতাহত হয়। মায়ানমার এ হামলায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে দাবি করেন। পরদিন হঠাৎ সেনারা সন্ত্রাসী দমনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ধরপাকড়, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এতে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসেন। এ সময় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সর্বশেষ গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ২৪টি পুলিশ ফাঁড়িতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। সে দেশে সেনারা সহিংসতার মুখে অপরাধী দমনের নামে শুরু হয় অভিযান। এতে প্রাণে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এ সময় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় উখিয়া-টেকনাফে পাহাড় ও সমতলে। কক্সবাজারের দুই উপজেলায় বর্তমানে ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস করে রেহিঙ্গা শিবির তৈরি করা হয়।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

সম্প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে দেশি-বিদেশি সংস্থার চাপের মুখে মায়ানমার সরকার ২০১৭ সালে ২৩ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। পরে এক বৈঠকে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর দিন ঠিক করা হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাসময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। প্রথম দফায় রোহিঙ্গাদের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে পাঠানোর কথা ছিল। এ সময় মায়ানমারে নিপীড়ন ও বৈষম্যের কারণে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে রাজি হয়নি। রোহিঙ্গাদের মাঝে ভয় ছিল তারা এভাবে ফেরত গেলে আবারও নির্যাতনের শিকার হবে। তবে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে ইচ্ছুক না, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও স্বদেশের জমি জামা ফেরতের দাবি করেছেন। এর ফলে এবারের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে যায়।

এর আগে ১৯৯২ সাল থেকে কয়েক বছরে পালিয়ে আসা আড়াই লাখ মতো রোহিঙ্গা টেকনাফের নয়াপাড়া ও উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে ২০০১ সাল পর্যন্ত এসব রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখেরও বেশি শরণার্থী মায়ানমারে ফিরে যায়। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ৫ মে এক পরিবারের দুজনসহ ৯২ জন দেশে ফেরার পর মায়ানমার হঠাৎ করে প্রত্যাবাসন বন্ধ করে দেয়। ওই সময় উখিয়া ও টেকনাফের দুই শিবিরে প্রায় ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা আটকা পড়ে। তারা প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় ছিল।

এদিকে ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশ মায়ানমারের সাথে প্রত্যাবাসন বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে দিন দিন বাড়ছে অনিশ্চয়তা। তাই দিন যতই গড়াচ্ছে, রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে অস্থিরতা। একই সঙ্গে বাড়ছে খুনসহ নানা অপরাধ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে স্থানীয়রা। তবে আশংকাজনক হারে রোহিঙ্গাদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছেন।

নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা

বর্তমানে নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে দুটি উপজেলায় ১১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৪ রোহিঙ্গা বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। তবে সে কার্যক্রম এখন বন্ধ। ইমিগ্রেশন বহিরাগমন বিভাগ ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর রোহিঙ্গাদের এই কাযক্রম পরিচালনা করেন। তবে শিবির গুলো থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাচেছন। যার ফলে বায়ুমেট্রিক পদ্ধতির আওতায় আসা রোহিঙ্গারা শিবিরে আছে কিনা খতিয়ে দেখা জরুরূী বলে মনে করেন সচেতন মহল।

বাড়ছে অপরাধ

পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুই বছরের এই সময়ে রোহিঙ্গা শিবির গুলোতে হত্যাসহ ২৩০টি মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ড হয়েছে। তৎমধ্যে ২৫টি মত খুন হয়। এসব ঘটনায় ২ শত রোহিঙ্গাকে আসামি করেছে। এর মধ্যে অস্ত্র আইনে ২৫টি মামলায় ৫৫ জন, মাদক আইনে ১০০ মামলায় ১৫০ জন, পাসপোর্ট আইনের ৬৫ মামলায় ৫০ জন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২ মামলায় দু’জন, অপহরণের ৫ ঘটনায় ১০ জন আসামি করা হয়। এছাড়া চোরাচালান আইনের ৭ মামলায় ১৫ জন, চুরির কয়েকটি মামলায় ১০ জন এবং ডাকাতির ৮ মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত দেড় বছরে রোহিঙ্গা শিবির থেকে পালিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে শিবিরে ফেরত আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের আশংকা

উখিয়া ও টেকনাফের সর্বত্র শরণার্থী শিবির। দুই উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মত। অথচ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় ১১ লাখের বেশি। যা স্থানীয়দের চেয়ে দ্বিগুন। এছাড়া দিন যতই গড়াচ্ছে, রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে অস্থিরতা। একই সঙ্গে বাড়ছে হত্যা, গুম, অপহরনসহ নানা অপরাধ মূূূলক কর্মকান্ড। এমনকি রোহিঙ্গাদের কাছে স্থানীয়রা নির্সহ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয়রা কোন না কোন সমস্যায় পড়ছে। তবে রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঢুকে পড়ছেন, আবার কেউ কেউ দেশীয় পাসর্পোট তৈরি করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচেছন। এইভাবে চলতে থাকলে এক সময়ে বড় ধরনের দূূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার সির্ভিল সার্জেন মতে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে দুই বছরের এই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তার মধ্যে ৯ হাজার ৩৪৯ জন নারী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সন্তান প্রসব করে। বাকিদের হোম ডেলিভারি হয়েছেন।

তবে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর এই দুই বছরে শিবিরগুলোতে অনুমানিক ৫০ হাজারের মতো শিশু জন্ম হয়েছে। এর কোন সঠিক তথ্য সরকারি-বেসরকারি বা এনজিও সংস্থার কাছে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) মুহিব উল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে থাকবে এটা কিন্তু আমরা চাই না। বাংলাদেশ আমাদের বাড়ি নয়। চিরদিন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে থাকতে চাই না।” আমরা নিজ দেশে ফিরতে চাই। প্রায় দুই বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদল, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী-এমপিরা রোহিঙ্গা ক্যা¤প পরিদর্শন করেছেন।এতে খুব একটা সুফল ভয়ে আসেনি।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আলম বলেন, মায়ানমারের মিথ্যাচারের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা এখন বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে, এতে দেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তবে রোহিঙ্গার তৎপরতায় নানা সংকট তৈরি করলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছেন।

উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পাহাড়ের তীরে হওয়ায়, বিশাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এখানে অপরাধ প্রতিদিনই বাড়ছে। তবু রোহিঙ্গা শিবিরে বিশৃঙ্খলা ঠোকাতে রাতদিন দায়িত্বপালন করছে পুলিশ। ###