আপনার কথাটেকনাফপর্যটন

সীমান্ত সু-রক্ষায় ও চোরাচালনা রোধে সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিজিবির নতুন চৌকি

259views

নুরুল হক, টেকনাফ::::

মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেষা টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে বর্ডার র্গাড বাংলাদেশ (বিজিবি)র একটি নতুন চৌকি স্থাপন করা হয়েছে।রোববার সকাল থেকে দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় বিজিবির টহল শুরু হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেন্টমাটিনে বিজিবির নিয়মিত টহল থাকবেন।

রবিবার ৭ এপ্রিল সকালে টেকনাফের দমদমিয়া পর্যটক জাহাজ ঘাট থেকে কেয়ারী ডাইন ক্রুস করে বিজিবির সদস্যরা সেন্টমাটিনে যান। পরে সেখান থেকে অস্থায়ী কার্যালয়ে মালামাল ও সরাঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়।

মূলত সীমান্ত সু-রক্ষায় ও চোরাচালনা রোধে নতুন করে বিজিবির এই চৌকি স্থাপনা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফস্থ ২ ব্যাটলিয়ান বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লে. কর্ণেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দ্বীপে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এরপর দ্বীপে কোস্ট গার্ড কাযক্রম চালিয়ে আসছিল। রোববার থেকে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি বিজিবিো সেখানে নিয়মিত টহল দিবে। এইটি সীমান্তের সুরক্ষা ও চোরচালান রোধে সরকার দ্বীপে বিজিবির একটি চৌকি স্থাপনার উদ্দ্যেগ নিয়েছেন। ওই চৌকিতে একজন কোম্পনী কমান্ডারের নেতৃত্বে শতাধিক বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

দ্বীপের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, রোববার একটি পর্যটকবাহি জাহাজে করে শতাধিকের বেশি বিজিবির সদস্য টেকনাফে থেকে সেন্টমাটিনে আসেন। শুনেছি বিজিবির নতুন করে একটি চৌকি স্থাপনা হচ্ছে দ্বীপে। তবে আপাততে তারা দ্বীপের আবহাওয়া অফিস কার্যলয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
সেন্টমাটিন ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহাম্মদ বলেন, সেন্টমাটিন দ্বীপে নতুন করে বিজিবির একটি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। রবিবার শতাধিক বিজিবি সদস্য দ্বীপে পৌছেন। তারা নিয়মিত টহল করে যাবেন। এর ফলে দ্বীপের পর্যটকের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে নতুন করে বিজিবি কাজ শুরু করেছেন। সেখানে আগে থেকে কোস্টগার্ড ও পুলিশ কাজ করছিল। এখন বিজিবির পুরোধুমে সীমান্তের সু-রক্ষায় কাজ করবেন বিজিবি।
উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের অক্টোবরের দিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ বলে মিয়ানমার দাবি করেছিল। মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট সম্প্রতি তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখন্ডের অংশ বলে দেখানো হয়। গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত উ লুইন ওকে তলব করে এর প্রতিবাদ জানায়। এরপর মিয়ানমার মানচিত্র থেকে সেটি পরিবর্তন করা হয়।