আপনার কথাজাতীয়

টেকনাফ-কক্সবাজার সীমান্তে যৌথ টহলের প্রস্তাব আইজিপি’র

117views

নিউজ টেকনাফ ডেক্স::::

সীমান্তের ওপার থেকে মাদক আসা বন্ধ করতে টেকনাফ ও কক্সবাজার সীমান্তে যৌথ টহলের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ড একসঙ্গে টহল দিলে সীমান্ত দিয়ে মাদক আসা অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব বলে মত দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিজিবি সদর দফতরে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মাদক ও মানবপাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকার সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সংসদ সদস্য ও অন্যদের বক্তব্যের শেষে যৌথ টহলের প্রস্তাব দিয়ে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড যখন যেভাবে প্রয়োজন আমরা যদি যৌথভাবে সীমান্তে টহল দিতে পারি, বিশেষ করে টেকনাফ, কক্সবাজার এলাকায় টহল দিতে পারি তাহলে ওপার থেকে এপারে মাদক আসা অনেকাংশেই বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করি। ’

বক্তব্যের শুরুতে এ ধরনের সভায় ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের অংশগ্রহণ রাখার কথা বলেন পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্তবর্তী জেলার জেলা প্রশাসকবৃন্দ ও বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ এসেছেন। আমাদের ডিআইজি ও এসপি সাহেবরা সভায় থাকলে আরও ভালো হতো। মাননীয় সংসদ সদস্যরা যেসব অভিযোগের কথা বলেছেন, সেসব বিষয়ে নোট নিতে পারতেন। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা যেসব জায়গায় থাকবেন, সেখানে আমাদের (পুলিশ) রাখা হলে বিষয়টি আরও ভালো হবে। ’সার্বিকভাবে সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অস্ত্রপাচার আমাদের জন্য অনেক বড় কনসার্ন। যে অস্ত্রগুলো আসছে, সেগুলো সীমান্তের ওপার থেকে আসছে। লেদ মেশিনে বানানো অস্ত্র আসছে। হলি আর্টিজানে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ওপার থেকে এসেছিল।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ সবাই এক হয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ থেকে মাদককে বিদায় জানানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে সকলে মিলে কাজ করেছি ঠিক একইভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এটা একটা সামাজিক সমস্যা। আমরা সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে এই মাদক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। টেবিলের এপার- ওপারে যারা আছি তারা হাতে হাত ধরে কাজ করলে মাদককে বাংলাদেশ থেকে বিদায় জানাতে পারবো।’

উল্লেখ্য, মতবিনিময় সভায় একপাশে বসেছিলেন সংসদ সদস্যরা ও অপর পাশে বসেছিলেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি প্রধানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মানবপাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন আইজিপি। তবে যশোর সীমান্ত দিয়ে কিছু মানবপাচারের ঘটনা এখনও শোনা যায় বলে জানান তিনি।

চোরাচালানের প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, ‘চোরাচালানের প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। আগে আমাদের এখানে চোরাচালানের মাধ্যমে শাড়ি, মসলা আসতো। কিন্তু এখন আসে মাদক। এখন ইয়াবা, ফেন্সিডিলের মতো ক্ষতিকারক জিনিসগুলো আসছে। ’

পুলিশের কেউ মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে পুলিশ প্রধান জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, বাংলাদেশ পুলিশও সেই নীতিতে অটল রয়েছে। আমাদের কোনও সদস্য যদি মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে সে ব্যাপারেও আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সাধারণ কারও কাছে মাদক পাওয়া গেলে আমরা যে ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমাদের পুলিশের কারও কাছে পাওয়া গেলেও আমরা একই ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাউকে ছাড় নয়।’

উপস্থিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের জানামতে মাদকের সঙ্গে পুলিশের কেউ সম্পৃক্ত থাকলে আমাদের জানাবেন। আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সভায় সংসদ সদস্যরা দাবি তোলেন, নিরপরাধ ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হয়। তাদের বক্তব্যের জবাবে আইজিপি বলেন, সেটা আমারও বক্তব্য। আমরাও সে ব্যাপারে চেষ্টা করছি। আপনাদের কারও কাছে এ ধরনের তথ্য থাকলে আমাদের নজরে নিয়ে আসবেন, আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

দিনাজপুরের সংসদ সদস্য ও হুইপ ইকবালুর রহিম মতবিনিময় সভায় বলেন, ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পুলিশ অনুষ্ঠান করছে। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইজিপি বলেন, আমি বিষয়টি নোট নিলাম। এবং আপনাদের উদ্দেশে বলতে চাই, সুনির্দিষ্টভাবে কোনও ঘটনা যদি আপনাদের নজরে এসে থাকে তাহলে আমাদের জানালে কঠোর ব্যবস্থা নেবো বলে ওয়াদা করছি।