আপনার কথাটেকনাফ

টেকনাফে ‘পুলিশ পরিচয়ে’ পান চাষির বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ

90views

নিউজ টেকনাফ ডেক্স::::

টেকনাফে ‘পুলিশ পরিচয়ে’ এক পান চাষির বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। একদল অস্ত্রধারী ওই বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে স্বর্ণ ও টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন বাড়ির মালিক। বুধবার (১৩ র্মাচ) ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবিরছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবিরছড়ার পানচাষি সৈয়দ কাশিমের বাড়িতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলা হয়। এসময় বাড়িতে থাকা চাষি সৈয়দ কাশিম দরজা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রধারীরা ঘরে ঢুকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘরের লোকজনকে জিম্মি করে ফেলে। এসময় কাশিম চিৎকার করলে তাকে মারধর করে মাঠিতে ফেলে দেয় অস্ত্রধারীরা। পরে তারা ঘরের আলমারিসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। আলমারিতে থাকা ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা পালিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি ও চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এর কিছুদিন আগে প্রশাসন পরিচয়ে একই এলাকার আব্দুল গফ্ফারের ছেলে নূর মিয়ার বাড়ী থেকে এক লাখ ৪০ হাজার নগদ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। এছাড়া পাশ্ববতী মিঠাপানিরছড়ার র্যাব পরিচয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক মৃত উমর হামজার ছেলে হাফেজ আব্দুল করিম ও দিন মজুর মৃত বদিউর রহমানের ছেলে আব্দুল আমিনের বাড়ী থেকে ৩ ভরি স্বণালংকা ও নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।  ইতিমধ্যে পাহাড়ারের পাশ্ববতী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

পানচাষি সৈয়দ কাশিম বলেন, ‘পুলিশ পরিচয় দিয়ে পাঁচ অস্ত্রধারী ডাকাতি করেছে। ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ১ লাখ ১০ হাজার লুট করে নিয়ে গেছে তারা। তাদের পরনে কালো জাকেট ও মুখে কালো কাপড় ছিল। এসময় ঘরের বাইরে তাদের আরও অস্ত্রধারী লোকজন ছিল। এ ঘটনাটি এলাকার লোকজন ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয় দিয়ে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত দল বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতি করে যাচ্ছে। এর মধ্যে এলাকার বেশ কিছু খারাপ লোকও জড়িত রয়েছে।’

এদিকে হঠাৎ করে টেকনাফ সদরের কিছু এলাকায় ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে। কিছু অস্ত্রধারী লোক পাশ্ববতী পাহাড়ে অবস্থান করে, রাত হলে পাহাড় থেকে নেমে তারা গ্রামে গ্রামে ঢুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে এই কাজ করে যাচ্ছেন। এতে গুটা এলাকার মানুষ ভয়ে মধ্যে রাত যাপন করছে। দিন শেষে রাত আসলে এই এলাকার মানুষের মাঝে বিরাজ করে আতঙ্ক।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা বলেন, ‘এক বাড়িতে ডাকাতির খবর এখন শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’