কক্সবাজার

কক্সবাজার এলএও অফিস থেকে চার দালাল আটক

149views

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএও) শাখায় টাউট-বাটপারির মাধ্যমে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাসহ চার দালালকে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ভবনের তিন তলার এলএও শাখায় অভিযান চালিয়ে এসব দালালকে আটক করা হয়। আটক দালালগণ সবাই কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের বাসিন্দা। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজনকে ১০ দিন ও অপর দুইজনকে ২০ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া দালালের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বাসিন্দা আসলাম চৌধুরীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলমও রয়েছেন। খোরশেদ আলম মহেশখালী দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়নের মারকাঘোনা গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে। আটক অপর তিন দালাল হচ্ছেন- মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের মৃত জাবের আহমদের ছেলে মোহাম্মদ কাইউম, হোয়ানকের হরিয়াপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সব্বিরের ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও দ্বীপের কালারমার ছড়ার নোনাছড়ি গ্রামের মকবুল আহমদের ছেলে রকি উল্লাহ রকি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার জানান- ‘বেশ কিছুদিন ধরেই জেলা প্রশাসনের এলএও শাখায় দালালদের উৎপাতে সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল। এসব দালালগণ সার্ভেয়ার ও কানুনগোর টেবিল ঘিরে ধরে কাজে বাধা প্রদান করে থাকে।’

তিনি বলেন, এর আগে জেলা প্রশাসনের তরফে দালালদের তালিকা প্রণয়ন করে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছিল। টাঙানো তালিকায়ও আটক হওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলমসহ অন্যান্যের নাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব দালালরা দালালির আড়ালে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে নানা মিথ্যা তথ্যও বাইরে সরবরাহ করে আসছে। সেই সঙ্গে দালালরা উন্নয়ন প্রকল্পের জমির মালিকদের মাঝে নানা বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে আন্দোলনে নামার ক্ষেত্রও প্রস্তুত করে দিত।

তিনি জানান, কক্সবাজারে ১২টি মেগা প্রকল্প সহ বর্তমানে ৭০টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজে কর্মকর্তারা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরেও এলএও শাখায় যখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছিলেন তখনও দালালরা গিজ গিজ করছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পুলিশ ও আনসারের সহযোগীতায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সরকারি অফিসে কর্মচারীদের কাজে বাধা প্রদান কালে তাদের আটক করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানকালে ভদ্রবেশী পেশাজীবীদেরও বেশ কয়েকজন পালিয়ে রক্ষা পান।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ জানান, সরকারি কাজে সরকারি কর্মচারীদের বাধা দেওয়ার অপরাধে ১৮৬০ সনের দণ্ডবিধি আইনের ১৮৬ ধারায় আটক দালাল রকি উল্লাহ রকি ও আবদুল কাইউমকে ১০ দিনের এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলম ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে ২০ দিনের দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। আটক দালালদের রাতেই জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।