1. monirabdullah83@gmail.com : admin2020 :
  2. editor@newsteknuf.com : News Teknuf : News Teknuf
শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

করোনায় খাদ্য সংকট, খিদের জ্বালায় ঘাস খাচ্ছে ভারতের শিশুরা !

নিউজ টেকনাফ ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

লকডাউনের দেশে খিদের জ্বালায় ঘাস খাচ্ছে খুদেরা। শুনে অদ্ভুত মনে হলেও এই ঘটনাটি ঘটেছে বাস্তবেই। আর সেটা খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে। আবার যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যেও বটে, যিনি দেশের এই বিপদের সময়েও রাম মন্দির নিয়ে সমানে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। বারাণসীর বড়াগাও এলাকার কৈরিপুর গ্রামের ছয়টি শিশুর নুন দিয়ে ঘাস খাওয়ার এই ছবি সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হলে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে। পৌঁছে যান রেশনের সাহায্য নিয়ে। মোদির লোকসভা এলাকায় এহেন চিত্র ধরা পড়াতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে ভারতজুড়ে।

অনেকে ব্যঙ্গ করে বলছেন , এটাই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউনের ঘোষণা করেন। দিন আনা দিন খাওয়া দরিদ্র মানুষরা চরম দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে এই পরিকল্পনাহীন লকডাউনের ফলে। বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে বারাণসীর মানুষদের সঙ্গে মনের কথাও বলেছেন মোদি। কিন্তু গ্রামের মানুষদের খিদের কথা তিনি বোধ হয় শোনার সময় পাননি। ভিডিও কনফারেন্স এবং করোনার প্রকোপে লকডাউনের সময়ে এহেন চিত্র সামনে আসায় বেজায় অস্বস্তিতে মোদি সরকার। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও মাঠে নেমেছেন জেলাশাসক।

বারাণসীর জেলাশাসক কৌশল রাজ শর্মা দাবি করেছেন , ওই শিশুগুলি আখড়ি ডাল ও ছোলা খাচ্ছিল গাছ থেকে। ওদের পরিবারের রেশন কার্ড রয়েছে। এ মাসের রেশনও তারা পেয়েছে। তারপরেও অবশ্য এই ঘটনার পর ওদের বাড়িতে আমরা অতিরিক্ত রেশন পৌঁছে দিয়েছি।

বুধবার ছয়টি শিশুকে মাটিতে বসে ঘাস ছিড়ে খেতে দেখা যায়। স্থানীয় ভাষায় একে ‘আখড়ি’ বলে। মুসাহার সম্প্রদায়ের ওই শিশুগুলির বয়স পাঁচ বছর। কৈরিপুরের মুসাহার বস্তিতে ওরা থাকে । রানি , পূজা , নেরু , বিশাল , সোনি ও গোল নামের ওই ৬ শিশু খিদে সহ্য করতে না পেরে ঘাস খাচ্ছিল , যা সাধারণত গবাদি পশুর খাদ্য। আর একটি ভিডিওতে শিশুগুলিকে একটি প্লেট থেকে “ফালিয়ান ” নামক মটরদানা খেতে দেখা যায়। এটিও গবাদি পশুর খাবার। এদের মধ্যে কয়েকটি বাচ্চার বাবা দিনমজুর। কয়েকজনের বাবা ভিক্ষাও করে।

এই খবর চাউর হতেই বুধবার পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ওদের পরিবারগুলিকে ১০ কেজি চাল, তেল, আলু ও অন্যান্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করা হয়। পরে তাদেরকে সাহায্য করা হবে বলে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে। ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ফলে হয়তো ওই পরিবারগুলো খাবার পেল। কিন্তু লকডাউনের ফলে এখন অনেক পরিবারেরই এই অবস্থা। প্রধানমন্ত্রী মোদি যদি ভিডিও কনফারেন্স ও মন কি বাতের পাশাপাশি এহেন অভুক্ত মানুষদের সন্ধান করেন, সেটাই এখন যুক্তিযুক্ত হবে, মনে করছেন ভারতের আমজনতা।

সুত্র: টিডিএন বাংলা

শেয়ার করুন

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Newsteknaf
Theme Developed BY ThemesBazar.Com