1. monirabdullah83@gmail.com : admin2020 :
মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

শান্তির বার্তা ট্রাম্পের, যুদ্ধ চায় না ইরানও

নিউজ টেকনাফ ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ টেকনাফ ডেক্স::::
মধ্যপ্রাচ্যে থেমে গেল যুদ্ধের দামামা। শান্তির বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ইরান জানায়, তারাও যুদ্ধ চায় না। ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা এবং এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরান আক্রমণ করায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়। সত্যিই কি যুদ্ধ শুরু হচ্ছে- সপ্তাহজুড়ে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে বিশ্বের সাতশ’ কোটি মানুষের মধ্যে। এর উত্তর ছিল মূলত ট্রাম্পের কাছে। তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর কমান্ডার। তিনি নির্দেশ দিলেই রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হতো পারস্য সাগর থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিশাল মরুজনপদ। বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে টেলিভিশনে সরাসরি জাতির উদ্দেশে ভাষণের জন্য দাঁড়ান, তখনও সবার মধ্যে ছিল উদ্বেগ। ঘটনার পরম্পরা বলার মধ্যে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ও সোলাইমানিকে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ভাষণ এগোতে থাকেন। এরপর না জানি কী বলেন, সেই উৎকণ্ঠায় তার ১০ মিনিট ভাষণের শেষ বাক্য পর্যন্ত সবাই কান খাড়া রাখেন। এর মধ্যে তিনি বলেন, ‘সব কিছুর জন্যই যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তবে ইরান থেমে গেছে।’ আর একবারে শেষ বাক্যে শান্তির কথা শোনান ট্রাম্প। সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিশ্ববাসী। ইরানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত চৌকস সমরবিদ ও দেশটির অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে শুক্রবার ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। হুট করে ট্রাম্পের এ পদক্ষেপে হতভম্ব হয়ে যায় বিশ্ব। এ নিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের নেতারাই বিভক্ত হয়ে পড়েন। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘খামখেয়ালি’ অভিহিত করে যুদ্ধ এড়াতে চাপ সৃষ্টি করেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্নেষকসহ সব দিক থেকেই বলা হচ্ছিল, ইরান প্রতিশোধ নেবেই। তবে তার মাত্রা কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়। টান টান উত্তেজনার মধ্যে সোলাইমানির দাফন শেষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৪টার দিকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করে ইরান। তারা দাবি করে, এ আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ সেনা নিহত ও দুই শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন।

অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ টুইটে বলেন, ‘যে ঘাঁটি থেকে আমাদের মানুষ ও কর্মকর্তাদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা করা হয়েছে, আত্মরক্ষায় ইরান সেখানে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে এর সমাপ্তি টেনেছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করা হয়েছে। আমরা যুদ্ধ বা উত্তেজনা বাড়াতে চাই না। তবে কোনো আগ্রাসন হলে, তা থেকে নিজেদের রক্ষা করবই।’

ট্রাম্প তার ভাষণে জারিফের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যে কোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। ইরান হাত গুটিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের হামলায় ইরাকে সেনা নিহতের তেহরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা বা ইরাকের একজন মানুষও আক্রান্ত হয়নি।

শান্তির বার্তা দিলেও পুরো ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমরশক্তির মালিক যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের আছে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। তবে আমরা তা ব্যবহার করছি না। ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মানুষ আক্রান্ত হয়নি। আমাদের সামরিক ঘাঁটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এর জবাব দেওয়ার দরকার নেই।’ ট্রাম্প বলেন, ‘(যুদ্ধ পরিস্থিতি) ইরান থেমে গেছে। যেটা সব পক্ষ ও বিশ্বের জন্য ভালো। এখন ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা বাতিলের মাধ্যমে সন্ত্রাসের পথ ত্যাগ করে, তাহলে আমি শান্তি স্থাপনেও প্রস্তুত।’

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, জেনারেল সোলাইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যার জবাব হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়, ‘অপারেশন শহীদ সোলাইমানি’। ইরান থেকে ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দুটি বিস্ম্ফোরিত হয়নি। তবে ইরবিলে যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, তার সবগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এ হামলার নিন্দা জানায় ন্যাটো ও ইউরোপের পরাশক্তিরা। রাশিয়া-চীনসহ বিশ্বের সব বড় শক্তি উভয় পক্ষকে যুদ্ধের পথ পরিহারের আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ হাজারের মতো সৈন্য রয়েছে ইরাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানি জেনারেল সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ইরাকের পার্লামেন্ট দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বলেছিল, ইরাক থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরাক থেকে যদি সৈন্যদের চলে যেতে হয়, তাহলে দেশটির ওপর এমন অবরোধ আরোপ করা হবে, যা ইরাক ‘আগে কখনও দেখেনি’।

অন্যদিকে যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্বের পুঁজিবাজার ও তেলের বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। তবে গতকাল ট্রাম্পের ভাষণের পর তা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 Newsteknaf
Theme Developed BY ThemesBazar.Com