1. monirabdullah83@gmail.com : admin2020 :
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

টেকনাফে পাহাড়ে র‌্যাবের সঙ্গে রোহিঙ্গা ডাকাত দলের থেমে থেমে গোলাগুলি : ক্যাম্পের ত্রাস ৭ ডাকাত নিহত

নিউজ টেকনাফ ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ প্রতিনিধি ::::

টেকনাফে গহীন পাহাড়ে র‌্যাবের সঙ্গে রোহিঙ্গা ডাকাত দলের থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ত্রাস ৭ ডাকাত নিহত হয়েছে। নিহত ডাকাত দলের সদস্যরা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের। তাদের মধ্যে চার জনের মরদেহ সনাক্ত করা হয়েছে, বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২ মার্চ) ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত টেকনাফ জাদিমোরা ও শালবনের পাহাড়ে থেমে থেমে ঘন্টার পর ঘন্টা অভিযান চলে। এতে সাত ডাকাত নিহত হলেও কুখ্যাত জকির ডাকাত পালিয়ে যান।

অভিযান পরিচালনাকারি দলের প্রধান কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উইং কমান্ডার বলেন, গত রবিবার রাতে টেকনাফ ক্যাম্পের র‌্যাবের একটি দল হ্নীলা জাদিমোড়া-মোছনির মাঝামঝি ‘এডেরা’ নামক গভীর পাহাড়ে কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত জকির দলের সদস্যরা অবস্থানের খবরে র্যাবের একটি টিম অভিযানে গেলে র‌্যাবের উপর গুলিবর্ষণ করে পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
তারই সুত্র ধরে সোমবার ভোরে তার নেতৃত্বে র‌্যাবের আরও একটি বিশেষ টিম পাহাড়ের ভিন্ন পথে চারটি পাহাড় ডিঙ্গিয়ে আস্থানায় পৌছলে স্বশস্ত্র ডাকাতদল উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতারি গুলি শুরু করে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি চলতে থাকে। সকালের দিকে ডাকাতদল আত্মগোপনে চলে যায়। পরে র‌্যাব তল্লাশি চালিয়ে ৩টি বিদেশী পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, ৭টি ওয়ার সুটার গ্যান ও ১৩ রাউন্ড কার্তুজের গুলি উদ্ধার করা হয়। এসময় রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সাত সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, এ সময় কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত জকির সেখানে ছিল। তবে সে পালিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে চার জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের ক্যাম্পের লোকজন ডাকাত হিসেবে শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়া চলছে।

একইদিন বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের সময় হঠাৎ করে পাহাড়ে একটি ডাকাতদল আবারো গুলি চালালের্‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে থেমে থেমে গুলি বিনিময় হয়। এ ঘটনায় পাহাড় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।’

টেকনাফ সিপিসি-১ ক্যাম্পের ইনচার্জ মির্জা শাহেদ মাহাতাব বলেন, হ্নীলা জাদিমোড়া ২৭ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গহীন পাহাড়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে ৪-৫টি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল গড়ে উঠে। তার মধ্যে অন্যতম কুখ্যাত জকির ডাকাতের সদস্যরা। তারা গহীন পাহাড়কে আশ্রয়স্থল বানিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, অপহরণ ও মাদক কারবার। তাদের রয়েছে এক বিশাল বাহিনী। তাদের কাছে জিম্মি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লোকজন। এমনকি তারা প্রায় সময় অভিযানকালে র‌্যাব উপরও গুলি চালায়। রোহিঙ্গা ডাকাতের নিহত ঘটনায় মামলা করা হবে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাত রোহিঙ্গা ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ডাকাতদের আস্তানায় পুলিশের আরও একটি বড় অভিযান চলবে।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 Newsteknaf
Theme Developed BY ThemesBazar.Com